আজকাল ডেস্ক : জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করেছেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য খগেন্দ্রনাথ মণ্ডল। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার ট্যাংরামারী গ্রামের একটি গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খগেন্দ্রনাথ এলাকায় খুব জনপ্রিয় ছিলেন। গত ইউপি নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। খগেন্দ্রনাথ সরাসরি কোনো দলের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। খগেন্দ্রনাথের ছেলে রতন মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের আগে তাঁর বাবা এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সীমাবদ্ধতা ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে জনপ্রত্যাশা পূরণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এ অবস্থায় শুক্রবার গভীর রাতে তিনি বাড়ির পেছনের একটি গাছের ডালে দড়ি বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। খগেন্দ্রনাথের স্ত্রী হেমলতা মণ্ডল বলেন, এলাকার মানুষের জন্য আশানুরূপ কাজ করতে পারছিলেন না বলে কয়েক দিন ধরে তিনি হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। খগেন্দ্রনাথের ছোট ভাই সুখেন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, তাঁর ভাইয়ের জামার পকেটে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘সেবা করার জন্য জনগণ আমাকে ভোটে নির্বাচিত করেছিল। অথচ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। এ জন্য আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলাম। আমার মৃত্যুর জন্য আমার পরিবারের সদস্য বা অন্য কেউ দায়ী নয়।’ খগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এর মৃত্যুর খবর পেয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, “এটা ঠিক নয়! ব্যর্থ হলেই মরতে হবে কেন? আমরা কি বেঁচে নেই? বেঁচে থাকতে হয়!” খগেন্দ্রনাথের মতো আর কেউ কখনোই জনসেবায় আসবে না, সৈয়দ আবুল এমনই প্রত্যাশা করেন। শেষে মন্ত্রী বলেন, “আমার কোন লজ্জা নেই, মন্ত্রীর কোন লজ্জা থাকে না।”
